টাইফয়েড একটি বিপজ্জনক সংক্রামক রোগ, যা দূষিত খাবার এবং পানি দিয়ে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যু ঘটে। বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে। সুসংবাদ হলো, সরকার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর আওতায় প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী টাইফয়েড টিকা (Typhoid Conjugate Vaccine – TCV) কার্যক্রম চালু করেছে। এই টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশু-কিশোরদের।
কিন্তু টিকা পেতে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন শুরু হয়েছে ১ আগস্ট থেকে এবং কর্মসূচি শুরু হবে ১২ অক্টোবর থেকে (পূর্বে ১ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দুর্গাপূজার ছুটির কারণে পিছিয়েছে)। এই নিবন্ধন করা যায় VAXEPI.GOV.BD ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, এমনকি মোবাইল থেকেও। নিবন্ধনের পর ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করে টিকা নেওয়ার সময় দেখাতে হবে।
এই আর্টিকেলে আমরা VAXEPI.GOV.BD টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন এর সম্পূর্ণ নিয়ম ধাপে ধাপে জানাবো। যদি আপনার শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকে, তাহলে চিন্তা নেই—মা-বাবার মোবাইল নম্বর দিয়েও নিবন্ধন সম্ভব। চলুন, শুরু করি!
টাইফয়েড টিকা কার্যক্রমের মূল তথ্য
- যোগ্যতা: ৯ মাস থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর (প্রায় ৫ কোটি)।
- টিকার ধরন: এক ডোজ ইনজেকশন, যা ৩-৭ বছর সুরক্ষা দেয়।
- কার্যক্রমের সময়: ১২ অক্টোবর থেকে শুরু। প্রথম ১০ দিন স্কুলে, পরের ৮ দিন স্থায়ী/অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রে।
- সাপোর্ট: গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সহায়তায়।
- নিরাপত্তা: টিকাটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহৃত। সাইড ইফেক্ট সাধারণত হালকা (যেমন ইনজেকশন স্থলে লালভাব)।
এখন আসুন, টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন এর ধাপগুলো দেখি।
VAXEPI.GOV.BD-এ টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশনের ধাপসমূহ
নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুবই সহজ এবং মাত্র ৫-১০ মিনিট সময় লাগে। আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় জিনিস: ইন্টারনেট, শিশুর জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ ডিজিট) বা মোবাইল নম্বর। সব তথ্য ইংরেজিতে লিখতে হবে।
| ধাপ | বিবরণ | টিপস |
|---|---|---|
| ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ | ব্রাউজারে গিয়ে https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv লিঙ্কে ক্লিক করুন। | মোবাইল অ্যাপ (VaxEPI) ডাউনলোড করে (Google Play থেকে) আরও সহজে করতে পারেন। |
| ধাপ ২: শিশুর জন্মতারিখ দিন | দিন, মাস, বছরের ঘর পূরণ করুন (যেমন: DD/MM/YYYY)। | নিশ্চিত করুন শিশুর বয়স ৯ মাস-১৫ বছরের মধ্যে। |
| ধাপ ৩: জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিন | ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর টাইপ করুন। যদি না থাকে, মা/বাবার মোবাইল নম্বর দিন। | জন্ম নিবন্ধন থাকলে সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড পাবেন। না থাকলে পরে যাচাই করতে হবে। |
| ধাপ ৪: লিঙ্গ নির্বাচন | ছেলে/মেয়ে সিলেক্ট করুন। | সঠিক তথ্য দিন, ভুল হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। |
| ধাপ ৫: ক্যাপচা পূরণ | স্ক্রিনে দেখানো কোড টাইপ করুন এবং ‘সাবমিট’ ক্লিক করুন। | ক্যাপচা ভুল হলে আবার চেষ্টা করুন। |
| ধাপ ৬: অতিরিক্ত তথ্য দিন | মা-বাবার মোবাইল নম্বর, ই-মেইল (ঐচ্ছিক), পাসপোর্ট সাইজের ছবি (যদি লাগে), বর্তমান ঠিকানা পূরণ করুন। | মোবাইল নম্বর সঠিক দিন, কারণ SMS-এ কনফার্মেশন আসবে। |
| ধাপ ৭: যাচাই এবং সমাপ্তি | তথ্য যাচাই করে ‘সাবমিট’ করুন। সফল হলে ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করুন। | কার্ড প্রিন্ট করে রাখুন বা মোবাইলে সেভ করুন। টিকা নেওয়ার সময় এটি দেখাতে হবে। |

নোট: যদি কোনো সমস্যা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন (যেমন: ০১৬২০-০০০০০০)। এখন পর্যন্ত ৯০ লাখেরও বেশি শিশু নিবন্ধিত হয়েছে।
টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী লাগবে?
- শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ নম্বর (১৭ ডিজিট)।
- মা/বাবার মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল।
- শিশুর ছবি (ঐচ্ছিক, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে লাগতে পারে)।
- ইন্টারনেট সংযোগ।
টাইফয়েড টিকা নেওয়ার উপকারিতা
- দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা: ৩-৭ বছর পর্যন্ত টাইফয়েড থেকে রক্ষা করে।
- বিনামূল্যে: সরকারি সুবিধা, কোনো খরচ নেই।
- সহজ প্রক্রিয়া: স্কুল বা ক্লিনিকে টিকা নেওয়া যাবে।
- জাতীয় লক্ষ্য: ৫ কোটি শিশুকে কভার করা, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
অভিভাবকদের অনুরোধ: টিকা নিয়ে কোনো ভয় করবেন না। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-অনুমোদিত এবং বাংলাদেশে পাইলট প্রোগ্রামে সফল হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেজিস্ট্রেশন করুন, যাতে আপনার শিশু নিরাপদ থাকে! যদি আরও প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন। শেয়ার করে অন্যদের সাহায্য করুন। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ান!